ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরান কূটনীতিতে ফিরতে প্রস্তুত—শর্ত একটাই, আগ্রাসন বন্ধ হতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
জেনেভায় জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই বার্তা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা 'সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য' এবং পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে জেনেভায়, যেখানে ইউরোপের তিনটি প্রধান শক্তি ও ইইউ’র কূটনৈতিক প্রধান অংশ নেন।
আরাগচি বলেন, ইসরায়েলের হামলা নিরাপদ পরমাণু স্থাপনায় আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর নিন্দাজ্ঞাপনে অনীহা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি ঘোষণা করেন, "আমরা আবারও আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত।"
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকে। তবে ২০০০-এর দশকে পশ্চিমা বিশ্ব এতে গোপন অস্ত্র উন্নয়নের আশঙ্কা প্রকাশ করে।
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত Joint Comprehensive Plan of Action (JCPOA) ছিল একটি মাইলফলক চুক্তি, যা ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে বাতিল করে।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে 'আঞ্চলিক হুমকি' বলে চিহ্নিত করে আসছে। পরমাণু স্থাপনায় সাইবার হামলা, বিজ্ঞানী হত্যা এবং গোপন মিশনে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা নিয়ে ইঙ্গিত দেয় ইরান।
ইউরোপীয় দেশগুলো দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছে—একদিকে ইসরায়েলকে সমর্থন, অন্যদিকে চুক্তির পথ খোলা রাখা।
ইরানের শর্ত দিয়ে আলোচনা প্রস্তাব কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান বরাবরই বলছে, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তাদের সার্বভৌমত্বের বিষয়—এখানে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই।
পশ্চিমা দেশগুলো চায়, মিসাইল প্রোগ্রাম ও সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম আলোচনার আওতায় আনতে।
ইসরায়েল আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্রচুক্তিতে স্বাক্ষরকারী নয়।
এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলের চোখে 'দ্বৈত নীতিমালা' স্পষ্ট হচ্ছে, যা ইরানের ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
আবারও JCPOA-এর নতুন সংস্করণ আলোচনায় আসতে পারে
ইরান-ইইউ সম্পর্ক ঘুরে দাঁড়াতে পারে
আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাসের সম্ভাবনা
ইসরায়েলের প্রভাব ও পশ্চিমা দ্বিধানীতির ফলে আলোচনার আগেই বিশ্বাস সংকট
মার্কিন অবস্থান পরিষ্কার না হওয়ায় ইউরোপের একক কূটনীতি দুর্বল হতে পারে
ইরানে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও এসব আলোচনা ভোট রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে
আব্বাস আরাগচির বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বিবৃতি নয় — বরং তা ইরানের দীর্ঘদিনের আত্মরক্ষামূলক পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন।
ইরান এখন কূটনৈতিক দরজায় ফিরে যেতে চায়, কিন্তু চায় না আত্মসমর্পণ করে।
যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আগ্রাসন বন্ধ ও আইনের ন্যায্যতা বজায় রাখে, ততক্ষণ ইরান শুধু শান্তি নয় — সম্মানের ভিত্তিতে শান্তি চায়।
এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
1. ইরান আবার কূটনীতিতে ফিরছে কেন?
আগ্রাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে কূটনীতি চালিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
2. ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কি নিরাপদ?
ইরানের দাবি অনুযায়ী, এটি সবসময় আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে এবং শান্তিপূর্ণ।
3. কেন ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ?
ইসরায়েল নিজে কোনো পরমাণু অস্ত্রচুক্তিতে নেই, কিন্তু ইরানের স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
4. ইউরোপীয় দেশগুলো কী বলেছে?
তারা আলোচনায় আগ্রহী হলেও ইরান হামলার নিন্দা না করায় বিরক্ত।
5. আলোচনা কোন ইস্যুতে হতে পারে?
মূলত JCPOA-এর ভবিষ্যৎ, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |